
মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের ওপর নতুন করে কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ, তাই তাদের ওপর অতিরিক্ত কর চাপানো উচিত হবে না বলে তিনি মনে করেন।
রোববার (১৭ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন কর আরোপের সম্ভাবনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, দেশের অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ডেলিভারি কর্মী এবং গ্রামাঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের জন্য মোটরসাইকেল একটি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এ খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা এমনভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত যাতে সাধারণ জনগণ অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার না হন। জীবনযুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষের ওপর নতুন কর চাপানো জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, সরকার যদি এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন কর আরোপ করা হলে তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অন্য একটি অংশ বলছে, রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক ডেলিভারি সেবা ও রাইড শেয়ারিং খাতের বিস্তারের কারণেও এ বাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।