
লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই সহোদর শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন সিফাত আহমেদ (১৮) ও স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং রাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজাউল হক নামের এক শিক্ষকের সন্তান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে খেলাধুলা শেষে কয়েকজন বন্ধু মিলে তিস্তা নদীর ৪ নম্বর স্পার বাঁধ এলাকায় গোসল করতে যায় দুই ভাই। এ সময় প্রথমে ছোট ভাই স্বচ্ছ নদীতে নামে। হঠাৎ নদীর তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যেতে শুরু করলে বড় ভাই সিফাত তাকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
তবে নদীর স্রোত অত্যন্ত বেশি থাকায় দুই ভাইয়ের কেউই আর তীরে ফিরতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন, জেলে ও আশপাশের মানুষ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর দুই ভাইকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
এ ঘটনায় পুরো রাজপুর এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহত দুই ভাইয়ের বাবা একজন শিক্ষক হওয়ায় এলাকার মানুষ পরিবারটির সঙ্গে সমবেদনা প্রকাশ করছেন। সন্তান হারিয়ে বাবা-মায়ের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়নে নেমে এসেছে নীরবতা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছোট ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই বড় ভাইও নদীর স্রোতে ভেসে যায়। তিস্তার পানি ও স্রোত বর্ষাকালে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দুই ভাইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকাজুড়ে এখনও শোকের আবহ বিরাজ করছে।