
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
নিজের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সরকারি অর্থ থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে—এমন অভিযোগ ও আলোচনা সামনে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
রোববার (২৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।
আ ফ ম খালিদ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তিদের চিকিৎসা সুবিধা একটি বিদ্যমান আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। ওই আইনে দেশ কিংবা বিদেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় বহনের বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার দাবি, বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের আগে দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ড যদি লিখিতভাবে মতামত দেয় যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকারপ্রধানের অনুমোদন এবং চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার বিধানও রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তার হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট স্থাপন করা হয়েছিল এবং একাধিকবার এনজিওগ্রামও করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তার হৃদস্পন্দনের একটি জটিল সমস্যা ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।
তিনি দাবি করেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ‘ক্যাথেটার অ্যাবলেশন’ নামের একটি জটিল চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ধরনের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম দেশে না থাকায় বিদেশে চিকিৎসার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাখ্যায় আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, প্রথম ধাপে থাইল্যান্ডের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয় শনাক্ত করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সে কারণে তাৎক্ষণিক অপারেশনের পরিবর্তে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। ওই পর্যায়ে তার প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও বিদেশে গিয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা হাসপাতাল বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ৮২ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ থেকে কেবল হাসপাতাল, অপারেশন ও ওষুধের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালীন আবাসন, খাবার, যাতায়াত এবং সঙ্গে থাকা সহকারীর ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন বলে দাবি করেন।
সব ধরনের ব্যয়ের রসিদ, ভাউচার ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু সংবাদে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
তবে চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন মহলে মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।