রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক পোস্টে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ, সহায়তার আহ্বান

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মিতু। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কথা জানান এবং দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডা. মাহমুদা মিতুর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের বন্যা তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার দাবি, সেই সময় সরকারি চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ৭৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার পরিচিত একটি দলের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রবল স্রোতে ভেসে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাকে মানসিকভাবে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে তিনি জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দুই বছর পর আবারও বন্যার খবর তাকে সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, দূর থেকে বন্যার খবর যতটা অনুভব করা যায়, বাস্তবে এর ভয়াবহতা তার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে প্রবল পানির স্রোত মানুষের জীবনকে কতটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা কঠিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. মাহমুদা মিতুর অভিযোগ, ২০২৪ সালের বন্যার সময় শুরুতে অনেক পরিবার প্রশাসনের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। তার দাবি, হাঁটুসমান এমনকি কোমরসমান পানি হলেও অনেকে নিরাপদ স্থানে যেতে রাজি হননি। পরে তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধারকর্মীদেরও চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী এবং সীতাকুণ্ডসহ একের পর এক উপজেলা পানিবন্দি হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বাঁশখালীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই উপজেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় সহজে যাওয়া যায় এমন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছালেও ভেতরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। পানি আরও বেড়ে গেলে এসব এলাকায় পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডা. মাহমুদা মিতুর মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুরু থেকেই পর্যাপ্ত নৌযান, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং সমন্বিত পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা জরুরি। তিনি বলেন, দ্রুত পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং দেশের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। তার মতে, সম্মিলিত উদ্যোগই এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews