রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞানের বাতিঘর, মুক্ত চিন্তার শিক্ষার আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের চার উপজেলায় আকস্মিক বন্যা, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী মাঠে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানালেন শেখ হাসিনা, আদালতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার, বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা আলবার্টায় ভয়াবহ টর্নেডোর তাণ্ডব, ক্যাম্প বিধ্বস্ত, আহত তিনজন, সতর্কতা জারি টানা বর্ষণে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, প্লাবিত শতাধিক গ্রাম, দুর্ভোগ বাড়ছে আরও বিশ্বকাপে সাফল্যের স্বীকৃতি, ২০৩০ পর্যন্ত হোসাম হাসানের ওপর আস্থা রাখল মিশর ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক পোস্টে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ, সহায়তার আহ্বান বাঁশখালী বন্যায় পানিবন্দি মানুষের পাশে জামায়াত আমির, সহায়তার আশ্বাস দিলেন নিজে চট্টগ্রামের বন্যা এলাকায় আজ যাচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পরিদর্শনে

২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার, বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ কম্পনটি শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে রেকর্ড করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই দুই ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। সংস্থাটির তথ্যমতে, এটি ভারতীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে অনুভূত হয়। অভিযোগ নয়, বরং পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৬৯৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪ দশমিক ৫০৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
এর আগে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায়ও দেশটিতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে। পরপর দুটি কম্পনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। তবে সরকারি পর্যায় থেকে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমার এমন একটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিশীলতার কারণে নিয়মিত ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকে। জানা গেছে, ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা—এই চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করায় দেশটিতে মাঝেমধ্যেই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাগাইং ফল্ট দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক ফাটলরেখা। গবেষকদের মতে, এই সক্রিয় ফল্টের আশপাশে সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো বড় শহর গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস থাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে বলা হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, ইয়াঙ্গুন শহরটি মূল ফল্টরেখা থেকে কিছুটা দূরে হলেও ঘনবসতির কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা মনে করেন, বড় মাত্রার কম্পন হলে দূরের এলাকাও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক দুটি ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি বা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতির কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আশ্রয় সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি সোম
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews