
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানী ঢাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বার্তার বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগ সড়কে বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ধীরগতির হতে পারে। ফলে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্ষাকালে টানা বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অফিসগামী মানুষের চাপের পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে দীর্ঘ যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় পরীক্ষার্থীদের যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক পথে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যায় পড়লে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষার সময় আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে রাজধানীতে যানজটের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের নয়, তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও বিকল্প সড়ক সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঢাকার অসংখ্য কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী বিভিন্ন এলাকা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামান্য বিলম্বও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির দিনে বাস, রিকশা কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। অনেক সময় হঠাৎ সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তাই পরীক্ষার্থীদের উচিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং প্রয়োজনে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা। পাশাপাশি সময়ের চাপ এড়াতে যথেষ্ট আগে বাসা থেকে বের হওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।