
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অসদুপায়ের সুযোগ কমিয়ে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত একটি প্রাথমিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অপকর্মের সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে।
পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চলতি বছরে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তবে আগামী বছর এমন পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃত্তি কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বৃত্তির গুরুত্ব অনেক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে কোনো এক সময় বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তবে এখন আবার এই কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্প্রতি ভোলার চরফ্যাশনে একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনাও অনুষ্ঠানে আলোচনায় আসে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন বলে জানা গেছে, প্রশ্ন প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বিভাগে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন। ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বৃত্তি কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষাবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।