
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদে পবিত্র কোরআনের সূরা মুলকের একটি আয়াতের তাফসির উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে। রোববার অনুষ্ঠিত সংসদীয় অধিবেশনে তিনি সূরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াত তেলাওয়াতের পর এর তাৎপর্য ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন। অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যরা মনোযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শোনেন বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আলোচনার শুরুতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মানুষকে জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে একটি পরীক্ষার ব্যবস্থার মধ্যে রেখেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সূরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াতে মানুষের পৃথিবীর জীবনকে একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মানুষের কাজ, চরিত্র এবং দায়িত্ববোধই মূল মূল্যায়নের বিষয়।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে, আয়াতে মৃত্যুর কথা জীবনের আগে উল্লেখ করার মধ্যেও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং প্রত্যেক মানুষকে একসময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এরপরই তার কর্মের হিসাব হবে। তাই পার্থিব জীবনে সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন বলে জানা গেছে, আল্লাহ মানুষের মধ্যে কে উত্তম আমল ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী, সেটিই পরীক্ষা করতে চান। কেবল বাহ্যিক সফলতা নয়, বরং মানুষের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং অন্যের প্রতি আচরণও এই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে আল্লাহর দুটি গুণের বিষয়ও তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে বলা হয়, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পরাক্রমশালী। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। যারা নিজেদের ভুল থেকে ফিরে এসে তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করেন, তাদের জন্য ক্ষমা ও অনুগ্রহের দরজা উন্মুক্ত রয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় তিনি একটি হাদিসের আলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিকেই উত্তম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি অন্য মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সমাজে ন্যায়, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও তিনি জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া এই ধর্মীয় আলোচনায় উপস্থিত সদস্যরা মনোযোগ সহকারে বক্তব্য শোনেন বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, আলোচনায় সূরা মুলকের শিক্ষার আলোকে মানুষের জীবন, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।