
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলোচিত শিশু মরিয়ম খাতুন হত্যা মামলায় একমাত্র আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন বলে আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশি নিরাপত্তায় কারাগারে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং উপস্থাপিত অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর এ রায় দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে মাঠে শাক তুলতে গিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তি তাকে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যান। পরে দীর্ঘ সময়েও শিশুটি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ভুট্টাখেত থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর মরিয়মের বাবা জীবননগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ একজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে বলে জানা গেছে।
মামলা চলাকালে আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার ফলেও ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছিল এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তার ভাষ্য, এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আদালতে তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।