
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার রাজধানীর বিএমএ ভবনের একটি মিলনায়তনে ন্যাশনাল উলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী আন্দোলনের একটি পর্যায়ে গতি কমে গেলেও পরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নতুন গতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি আরও দাবি করেন, দেশের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে আলেম সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে এবং সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা উচিত।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তাদের দাবি হচ্ছে, আন্দোলনে অবদান রাখা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তার ভাষ্যমতে, অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।
সেমিনারে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকারের কয়েকটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার, গণভোট এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিষয়গুলো নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যদি কোনো সাংবিধানিক সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি গণভোট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হওয়াই সবচেয়ে কাম্য। তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ওলামায়ে কেরাম এবং জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচিতে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার, মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ধরনের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিজস্ব মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থান। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ভিন্ন হতে পারে।