
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভেনেজুয়েলায় গত মাসে সংঘটিত শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ২৭৮ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু পরিবার এখনও দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
জানা গেছে, গত ২৪ জুন দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসের নিকটবর্তী উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহু ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এ দুর্যোগে আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন। আহতদের মধ্যে অনেককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, ভূমিকম্পের কারণে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্যোগের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি বর্তমানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে স্টেডিয়াম, খোলা মাঠ এবং অন্যান্য নিরাপদ স্থানও ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানা গেছে।