
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও সবার জন্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, দেশের কোনো নাগরিক যেন চিকিৎসার অভাবে জীবন না হারান, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি হলো স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে চিকিৎসার অভাবে কেউ মৃত্যুর মুখে না পড়েন। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মীদের সততা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভায় মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব ভূখণ্ড এবং সার্বভৌম পরিচয় পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের কারণে সাধারণ মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সে সময় গ্রামাঞ্চলে ভয়ভীতি সৃষ্টি, নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। যুদ্ধের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, চিকিৎসক সংগঠনের বিভিন্ন নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মরহুম ডা. আব্দুল কুদ্দুসের কর্মজীবন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং স্বাস্থ্যখাতে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।