
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা টিফিনের রুটির ভেতর থেকে ব্লেডসদৃশ একটি ধারালো বস্তু পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী সরকারি টিফিন হিসেবে পাওয়া রুটি খাওয়ার আগে সেটি ছিঁড়ে দেখার সময় ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি তার শ্রেণিশিক্ষককে জানায়। রুটিটি খাওয়ার আগেই বস্তুটি চোখে পড়ায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষিকা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় এ ধরনের ধাতব বস্তু রুটির মধ্যে থাকার কথা নয়। তারপরও কীভাবে এমন অভিযোগ উঠেছে, তা জানতে উৎপাদন ও মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযোগে উল্লেখিত রুটিটি সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ উঠে এলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিষয়টি জানার পরও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে বিলম্ব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি টিফিনের খাদ্যমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। তাই ব্লেডটি কীভাবে রুটির মধ্যে এলো বা এ ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।