
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফল উদ্বোধন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারছেন। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এসএসসি পরীক্ষার ফল এসএমএসে জানতে হলে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর ইংরেজিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রথম তিনটি অক্ষর, রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখে নির্ধারিত নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা বোর্ডের কোনো শিক্ষার্থীর জন্য “SSC DHA 123456 2026” লিখে এসএমএস পাঠানোর নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে।
দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। তাদের “Dakhil MAD 123456 2026” লিখে নির্ধারিত নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের “SSC TEC 123456 2026” ফরম্যাটে বার্তা পাঠাতে হবে বলে জানা গেছে।
এবার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের ফলাফল বিভাগে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর ব্যবহার করে ফলাফল শিট সংগ্রহ করা যাবে বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৪ মে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ফলাফল দেখার ব্যস্ততা। প্রত্যাশিত ফল পেয়ে অনেকে সন্তোষ প্রকাশ করছেন বলে জানা গেছে। আবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলাফল-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।