সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

শিবচরে আওয়ামী লীগ নেতাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

মাদারীপুরের শিবচরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাকে আটকের পর বিএনপির এক নেতার সুপারিশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, ওই নেতাকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়নি; তদন্তের প্রয়োজনেই থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২২ নম্বর সদস্য হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল শিকদারকে গত ১৫ আগস্ট শিবচর থানা পুলিশ নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মোজাম্মেল শিকদার কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মোজাম্মেল শিকদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় নাম রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ মে শিবচর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে ৭৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
তবে তাকে থানায় নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রয়োজনে মোজাম্মেল শিকদারকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ওসি আরও বলেন, মোজাম্মেল শিকদারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনো মামলায় তার আসামি হিসেবে থাকার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, মোজাম্মেল শিকদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে কী কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন বলে জানান ওই নেতা। তবে বিএনপির এক নেতা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে সুপারিশ করেছিলেন—এমন কথা তারা শুনেছেন বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, বিএনপির ওই নেতার পরিচয় বা সুপারিশের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগটি এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।
মোজাম্মেল শিকদারকে থানায় নেওয়া, জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট করতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে পুলিশি বক্তব্য, স্থানীয়দের দাবি এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews