
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের ইতিবাচক অবস্থান পাওয়া গেলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জনগণের পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তার অভিযোগ, অতীতে ভারত সরকার রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি বিশেষ সমর্থন দেখিয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ চেয়েছে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে দেশটির অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যে দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের আগে কয়েকটি বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান রাশেদ খাঁন। এর মধ্যে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খাঁনের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে সেটিকে বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে দেখবে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে এমন সম্পর্ক চায়, যেখানে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় থাকবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, কথিত পুশইন বন্ধ এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আধিপত্যমূলক আচরণ পরিহারের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
রাশেদ খাঁন জানান, ভারতের হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত যদি পলাতক ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর মনোভাব প্রকাশ করে এবং সীমান্তসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভারত সফরের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের অনুভূতির বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভালোভাবে নেওয়া নাও হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।