
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর আদাবর এলাকায় ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি নেতা ইসহাক জোমাদ্দার নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক মহেশ চন্দ্র সিংহ আদালতে শাহজাহান ওমরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ ও আদালতে দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইসহাক জোমাদ্দার আদাবর থানা এলাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে আদাবরের শ্যামলী ক্লাব মাঠের বিপরীত এলাকায় আন্দোলন চলার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ইসহাককে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে একটি হত্যা মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং ওই সহিংসতার মধ্যেই ইসহাক নিহত হন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং সম্ভাব্য জামিনের পর কোনো আসামির আত্মগোপনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ঠেকাতে শাহজাহান ওমরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন ছিল বলে তদন্ত সংস্থা মনে করেছে।
এ ছাড়া শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে রাজধানীর নিউমার্কেট, ঝালকাঠির রাজাপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, দুর্নীতি ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আদালতের আদেশের ফলে ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলাতেও শাহজাহান ওমরকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। তবে মামলায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।