
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের বাইরে না রেখে নতুন সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার—এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন সরকারের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষাক্রম সংস্কার, শিক্ষক উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু পরীক্ষার ফল নয়, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি
সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, এসব তরুণকে রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে না দেখে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৮ সালে বড় ধরনের শিক্ষাক্রম পরিবর্তন
সরকার ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এর আগে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যক্রমে কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন কিছু বই ও বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’
বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মাহদী আমিন। জানা গেছে, এ ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
এর মাধ্যমে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতায় গুরুত্ব
শিক্ষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণা এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষকদের দেশের গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নতুন করে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, সময়সূচি ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে।