
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভারের আশুলিয়ায় একটি বন্ধ কক্ষ থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক নবজাতক সন্তান থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর বিষয়টি আশপাশের মানুষের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরটি খুলে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। মরদেহগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মৃত্যুর সময় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী এবং একটি নবজাতক রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা সত্যিই স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান কি না, সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া পুরুষের গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে দরজা খুলে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনাটির পেছনে কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।
এদিকে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মধ্য জামগড়া এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।