শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি সংকটে অর্ধেক কমেছে পোশাক কারখানার উৎপাদন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক কারখানা তাদের স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করতে পারছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ওই সাক্ষাতে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সমস্যা, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
বিজিএমইএর নেতারা বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং রপ্তানি আদেশ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে জ্বালানির দাম, ব্যাংকঋণের সুদ এবং শ্রমিকদের মজুরি সমন্বয়সহ বিভিন্ন কারণে পোশাক উৎপাদনের ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি আদেশের সংকটের কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছে। এতে শিল্প খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিজিএমইএ নেতাদের।
তারা আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রপ্তানি আগের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত দুটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বল্প সুদের বিশেষ ঋণের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। এতে জ্বালানি সংকটের সময় বিকল্প উৎস ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কার্গো সুবিধা এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পোশাকশিল্পের চলতি মূলধন ও বাণিজ্য ঋণের সুদের হার কমানো, বিশেষ পোস্ট-শিপমেন্ট অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট তহবিলে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজিএমইএর এসব বক্তব্য রাষ্ট্রপতি সহানুভূতির সঙ্গে শুনেছেন বলে জানানো হয়েছে। তিনি তৈরি পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সংকট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। শিল্পের টেকসই বিকাশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় কারখানা পুনরায় চালু করতে বিশেষ অর্থায়নসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে শিল্পের বর্তমান সংকট কাটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট