শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

ঘুষের অভিযোগে কর কর্মকর্তা মিতুর পদোন্নতি আটকাল আট বছর

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ঢাকায় আয়কর নথি সংক্রান্ত অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার পদোন্নতি আগামী আট বছরের জন্য স্থগিত রাখার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের স্বাক্ষর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকার কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ সহকারী কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে একজন করদাতার কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়কর নথির বিভিন্ন রেকর্ডে পরিবর্তন আনা এবং নতুন নথি সংযোজনের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া পুরোনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণসংক্রান্ত আদেশ, আপিল ও ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি ও তার সহকারীর কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও ওঠে।
এসব অভিযোগের পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। এ আবেদনের পর গত ১৬ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় মামলায় অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করায় একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে ‘অসদাচরণ’-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের একটি অংশে তাকে দায়ী করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। এর ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী লঘুদণ্ড হিসেবে আট বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তার ওপর থাকা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তবে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগসহ পুরো ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন ও তদন্ত প্রতিবেদনে যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি তার ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট