
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলশান এলাকায় ওই ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এর আগে আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর মধ্যে শনিবার ৩২ জনকে এবং শুক্রবার মিছিলের ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নতুন করে ৪০ জন গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের কেএফসির পাশের একটি গলিতে ঝটিকা মিছিল বের করার অভিযোগ ওঠে। মিছিলটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা করেছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে ককটেল উদ্ধারের দাবিও করেছে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিছিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে উত্তরখান এলাকায় গোপন বৈঠকের অভিযোগে যুবলীগের আট নেতাকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
গুলশানের সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঝটিকা মিছিল ও পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য বা অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ওপরের প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার, মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য ও পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।



