
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)—এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন এনসিপির এই নেতা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয় বলে জানা গেছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, বিভিন্ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুষ লেনদেনকে কেন্দ্র করেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা জানানো হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমন খবর সামনে আসার পর নিজের ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’ তার এই বক্তব্য মূলত নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারের অভিযোগের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরে একই দিন বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের অঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের কথা শোনা যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কখনো ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, পরে ১১ হাজার কোটি টাকা এবং এর আগে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিজেদের মধ্যে আগে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা সামনে আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রথমে একটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয় এবং পরে সেটি থেকে নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, তিনি এসব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তার দাবি, অতীতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দুদককে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে এবং বর্তমানেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তাদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে বিষয়টি অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।



