
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের সম্পদের হিসাব নিয়ে অনুসন্ধান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তাদের ঘোষিত বা অর্জিত সম্পদ, পারিবারিক ব্যয় এবং গ্রহণযোগ্য আয়ের মধ্যে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ভিত্তিতে দুজনের কাছ থেকে পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক পিয়াস পালের দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নোটিশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মনিরুল ইসলামের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৩ হাজার ২২৫ টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৫ টাকা।
এ ছাড়া তার পারিবারিক ও জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ১২৮ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৩ টাকা। বিপরীতে অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮০ টাকা পাওয়া গেছে। এই হিসাবে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৩ টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মনিরুল ইসলামের স্ত্রী জাকিয়া পারভীনের নামে মোট ৩৮ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা স্থাবর এবং ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাকিয়া পারভীনের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার। এ হিসাবে ৩২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার সম্পদকে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্পদের প্রকৃত উৎস, পারিবারিক ব্যয় এবং গ্রহণযোগ্য আয়ের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে দুজনকেই পৃথক সম্পদ বিবরণী জমা দিতে বলা হবে। তবে অনুসন্ধানে কোনো সম্পদকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নোটিশ, জবাব এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।



