Eng
চট্টগ্রাম, জাতীয়, রাঙ্গামাটি, লিড নিউজ

পাহাড় ভ্রমণে গিয়ে কর্ণফুলীতে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত: , ২০ ২০২৬ | ০:৩৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাজিদ শাহারিয়ার সানম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাপ্তাই উপজেলার সীতার ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর বিকেলে নদী থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, নরসিংদী ও ঢাকা থেকে আসা নয়জনের একটি পর্যটক দল রোববার সকালে কাপ্তাইয়ে পৌঁছায়। স্থানীয় গাইডের সঙ্গে তারা সীতার পাহাড়ে ট্র্যাকিংয়ে যান। পাহাড়ে ঘোরাঘুরি শেষে দুপুরের দিকে দলটি নদীর পাথরঘাটা এলাকায় আসে। সেখানে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য কয়েকজন নদীতে নামেন।
এ সময় পানির স্রোতের টানে সাজিদ নদীর গভীর অংশে চলে যান বলে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের ভাষ্য। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা নিজেদের মতো করে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হননি।
ঘটনার খবর পেয়ে কাপ্তাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়। কয়েক ঘণ্টা তল্লাশির পর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নদী থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাজিদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নাছির উদ্দীনের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কাপ্তাই ভ্রমণে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সাজিদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম জানান, তারা নয়জন সকালে সীতার পাহাড়ে উঠেছিলেন। পাহাড় থেকে নামার পর নদীর ঘাটে হাত-মুখ ধোয়ার সময় হঠাৎ সাজিদ পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য তারা চেষ্টা করলেও পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান জানান, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে বিকেলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ভ্রমণের সময় নদী ও পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।