Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

ন্যাম ভবনে এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: , ২০ ২০২৬ | ০:৩২ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা ওই ফ্ল্যাটে যান।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুলের বরাতে জানানো হয়েছে, তাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে।

মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে এর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য ও দাবি সামনে আসে। গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। মরিয়ম খাতুন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের বিয়ের দাবি করা হয়েছিল বলে সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে ওই বিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অসঙ্গতির বিষয়ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। একটি বায়োডাটায় মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রকাশিত কাবিননামার সত্যতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

এদিকে রোববারের ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে। মরদেহের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বা মরদেহ উদ্ধারের ধরন দেখে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা যায় না। তাই তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্য না আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা, হত্যা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর খবর প্রকাশের সময় পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিস্তারিত তদন্ত-তথ্য বা মৃত্যুর কারণসংক্রান্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।