
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ সমাবর্তন আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। প্রথম সমাবর্তনের প্রায় এক দশক পর দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজন হতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তবে কোন কোন শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েটরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, মোট কতজন নিবন্ধন করতে পারবেন এবং অনুষ্ঠানটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উপাচার্য জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি সমাবর্তনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাচ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও অনুষ্ঠানস্থলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি। রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। সে সময় ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ৪ হাজার ৯৩২ জন গ্র্যাজুয়েট সমাবর্তনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।
প্রথম সমাবর্তনের পর দ্বিতীয় আয়োজনের অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের গ্র্যাজুয়েটরা। দীর্ঘ সময় ধরে সমাবর্তন আয়োজনের প্রত্যাশা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রক্রিয়া নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কলেজকে একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী এর আওতায় উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
সমাবর্তন সাধারণত ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আয়োজন। অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও স্বর্ণপদক দেওয়ার পাশাপাশি সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যের ব্যবস্থা থাকে।
দ্বিতীয় সমাবর্তনকে সামনে রেখে গ্র্যাজুয়েটদের নিবন্ধন, সনদ প্রস্তুত, একাডেমিক পোশাক, অনুষ্ঠানস্থল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে কোন শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ডিগ্রি অর্জনকারীরা এই সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পরই নিবন্ধনসহ পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।




