
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৬তম হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে মোট ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের মনোনীত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যেই মেধাক্রমে ২৬তম অবস্থান অর্জন করেছেন রাজু আহমেদ।
রাজু বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। একদিকে একাডেমিক পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি—দুইটি বিষয় একসঙ্গে সামলানো তার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় রাজু আহমেদ জানান, তিনি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পেয়েছেন। মেধাক্রমে ২৬তম হতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। এ অর্জনের জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিচারক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে শুরু থেকেই নিয়মিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তৃতীয় বর্ষ থেকে তিনি মূল প্রস্তুতিতে বেশি মনোযোগ দেন। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভালো লেখকদের বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
নতুনদের উদ্দেশে রাজুর পরামর্শ, পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সংক্ষিপ্ত বা শর্টকাট পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পড়তে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার এ সাফল্যে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সহপাঠীদের একজন জানান, রাজুর অর্জন তাদের জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার বিষয়। তার সাফল্য অনুসরণ করে অন্য শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে ভালো ফল অর্জনের চেষ্টা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিভাগের শিক্ষকরা রাজুর সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং একাডেমিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাজুর অর্জন বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন উৎসাহ তৈরি করবে বলে তারা আশা করছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে ইসলামী আইন ও প্রচলিত আইন—দুই ধারার সমন্বিত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেকে আইন পেশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও ৪৫ জন শিক্ষার্থী আইনজীবীর সনদ পেয়েছেন।
মাস্টার্সের পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় এমন ফলাফল অর্জন রাজুর শিক্ষাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



