
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছে। এই তালিকায় একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, জোটের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী থেকে আটজন নারী প্রার্থী সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও দুইজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া এই দুই নারী হলেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মনিরা শারমিন।
রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতা ও আলোচনা চলছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন দলের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন ভাগাভাগি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই বণ্টন করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে যাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম এবং মারদিয়া মমতাজ। তবে এসব নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রোকেয়া বেগম মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আরও জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় একটি মর্মান্তিক ঘটনার শিকার এক শিশুর মাকেও এই জোট মনোনয়ন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, ওই সময় পরিবারের সামনে গুলিতে নিহত হওয়া শিশুর মা রোকেয়া বেগমকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এই ধরনের মনোনয়ন রাজনৈতিক বার্তা বহন করে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক বিষয়কে সামনে আনার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হয়। তবে এসব মনোনয়ন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় না; বরং সাধারণ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। ফলে মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।