
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলাকে ঘিরে একটি রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকা এক নেত্রীর মেয়েই এবার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।
জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার সাবেক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাদিয়া পাঠান পাপন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি ধাপে ধাপে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য পদ লাভ করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে, তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি কৃষক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে ছিলেন বলেও স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে সৈয়দা নাখলু আক্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি অনেক আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে কখনও মতবিরোধ হয়নি। তিনি আরও বলেন, মেয়ে তার নিজের অবস্থান থেকে রাজনীতি করেছে এবং বর্তমানে মনোনয়ন পাওয়ায় একজন মা হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি খুশি।
এদিকে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্ট নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে চূড়ান্ত বলে কিছু নেই এবং একই পরিবারের মধ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকাটাও এখন অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়া পাঠান পাপনকে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও বলেন।
অন্যদিকে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারভিত্তিক ভিন্নমুখী রাজনৈতিক অবস্থান নতুন কিছু নয়, তবে এমন ঘটনা জনমনে কৌতূহল তৈরি করে। একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক দলে সক্রিয়তা ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।