
জামায়াতের সংসদ সদস্য ও আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজা-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি মানহানির মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন বলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেন, একটি ধর্মীয় বক্তব্যে মন্ত্রীর সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা মানহানিকর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৯ এপ্রিল আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে বক্তব্য দেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পরে ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনার সময় আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে থাকায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
আইনজীবীদের একটি অংশ মনে করছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের মামলা নতুন নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।