
যশোরের শার্শা এলাকায় এক কর্মসূচিতে নারীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে এলপিজি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানা গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরের দিকে যশোরের ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বক্তব্য দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকার পেতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল-নদী ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নারীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানা গেছে, রান্নার কষ্ট কমাতে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে সহায়তা দিতে একটি কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে গ্রামীণ নারীরা সহজে জ্বালানি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষা খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘোষণা এসেছে বলে জানা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া-এর সময় শুরু হওয়া মেয়েদের শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল, যা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল।
এখন সেই ধারাবাহিকতায় মেয়েদের ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে। এতে করে নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। যদিও এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও নীতিনির্ধারণের ওপর, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যশোরের এই কর্মসূচি থেকে দেওয়া বক্তব্যে উন্নয়ন, শিক্ষা ও নারীদের সুবিধা নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।