
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে কয়েকজন নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে যদি অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দায়ীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ সমাধান নয় বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালে কয়েকটি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদ-দ্বীন হাসপাতাল সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ফলে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, হাসপাতালটি কেবল চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও। সেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী চিকিৎসা শিক্ষায় অধ্যয়ন করছে এবং নার্সিং শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত বা বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচিত এ ঘটনাকে ঘিরে স্বাস্থ্যসেবা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।