বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে সারজিস-পাটওয়ারীসহ এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন মির্জা ফখরুল আদালতের আদেশে কিশোরী মায়ের কোলে ফিরল সাত মাসের সন্তান নাহিদ ইসলাম বললেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে শিক্ষার মান বাড়াতে কার্যকর তদারকির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীর তিন থানায় বিশেষ অভিযানে আটক ৫৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দিলেন ডা. জাহেদ রহমান মেহেরপুর পথসভায় শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করলেন হাসনাত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী ইস্যুতে শকুর তোপ কিশোরগঞ্জে শেখ হাসিনা ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আদালতের আদেশে কিশোরী মায়ের কোলে ফিরল সাত মাসের সন্তান

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকার একটি লিগ্যাল এইড আদালতের নির্দেশে সাত মাসের এক শিশুকে তার ১৩ বছর বয়সী মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিশুটিকে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আদালতের শরণাপন্ন হন কিশোরী মা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শুনানি শেষে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় শিশুটি আপাতত মায়ের কাছেই থাকবে বলে আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী জুঁই অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রায় দুই বছর আগে শাকিল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তবে কিছুদিন আগে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে তার কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় গত ১ জুলাই লিগ্যাল এইডে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে তারা উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পুলিশকে শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে নিয়ে আসে।

শুনানির সময় শিশুটির মা, অভিযুক্ত যুবক এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত শিশুটিকে মায়ের কোলে দেখে তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিচারক মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত শিশুটি মায়ের কাছেই থাকবে বলে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিশুটির বাবা দাবি করেন, কিশোরী স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে মা নিজেই রেখে চলে গিয়েছিলেন। এ কারণেই শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অন্যদিকে কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটির বয়স অল্প হওয়া সত্ত্বেও তাকে নানা কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বিয়ের কথা বলা হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, মেয়েটি তখনও পড়াশোনা করছিল এবং তার বিয়ের বয়স হয়নি। পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল।

এদিকে কিশোরীর আইনজীবী আদালতে বলেন, শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আইনজীবীর দাবি, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়। সেই কারণেই লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধারের আবেদন করা হয়েছিল।

অপরদিকে অভিযুক্ত পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের বক্তব্য আদালতে তুলে ধরে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অন্তর্বর্তী আদেশে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির অন্যান্য দিক নিয়ে আরও শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে, শিশুর অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews