শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

পাঁচ দিনে ৭২ ডেঙ্গু রোগী, বাড়ছে সচেতনতার উদ্যোগ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানা গেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে নতুন করে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে বাসিন্দাদের পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সাতজন রোগীকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, সেখানে ১৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন। এছাড়া তালায় ২৯, শ্যামনগরে ২৭, কলারোয়ায় ১৬, কালীগঞ্জে ১৬, দেবহাটায় ১২ এবং আশাশুনিতে পাঁচজন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার সরকার বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই ১৫ জনের বেশি নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলেও তিনি জানান। এতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা শুক্রবার শহরের সুলতানপুর, কামালনগর, মুনজিতপুরসহ কয়েকটি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবকেরা বৃষ্টির পর বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নষ্ট করার বিষয়ে বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি আগে থেকেই সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রত্যেক পরিবারকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইকবাল মাহমুদ পিয়ালও বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলোও ধ্বংস করতে হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টির পর বাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে পানি জমেছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট