
ডেস্ক রিপোর্ট:
হাতের তালু চুলকালে অর্থ আসবে—এমন বিশ্বাস বহুদিন ধরেই সমাজে প্রচলিত। বিশেষ করে ডান হাতের তালু চুলকানোকে অনেকেই আর্থিক লাভের ইঙ্গিত হিসেবে মনে করেন। আবার বাম হাতের তালু চুলকালে অপ্রত্যাশিত খরচ হতে পারে বলেও ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসব বিশ্বাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতের তালুতে চুলকানি অনেক সময় শরীরের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা দেখা দিলে কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, হাতের তালু চুলকানোর অন্যতম সাধারণ কারণ হলো একজিমা। এ অবস্থায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত চুলকানি, খসখসে ভাব, ত্বকে ফাটল কিংবা রঙের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ছোট ছোট পানিভরা ফোসকাও তৈরি হতে পারে, যা ডিজহাইড্রোটিক একজিমা নামে পরিচিত।
অভিযোগ উঠেছে, যারা নিয়মিত ডিটারজেন্ট, জীবাণুনাশক, রাসায়নিক পদার্থ বা দীর্ঘসময় পানির সংস্পর্শে কাজ করেন, তাদের মধ্যে এই ধরনের ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। পাশাপাশি পারিবারিকভাবে একজিমার ইতিহাস থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত রয়েছে।
এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও হাতের তালু চুলকানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুলকানি অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এর সঙ্গে ছোট লালচে দাগ বা গুটিও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, অ্যালার্জি বা কনটাক্ট ডার্মাটাইটিসের কারণেও হাতের তালুতে চুলকানি হতে পারে। ধাতব অলংকার, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী, ল্যাটেক্স গ্লাভস, সাবান, জীবাণুনাশক, ধুলাবালি কিংবা ক্লোরিনযুক্ত পানির সংস্পর্শে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সাধারণত অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে হাতের তালুতে চুলকানি যকৃতের নির্দিষ্ট রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস নামের একটি অটোইমিউন রোগে হাতের তালু লালচে হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, হাড়ে ব্যথা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, ডায়রিয়া কিংবা জন্ডিসের মতো উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও হাত ও পায়ের তালুতে চুলকানি হতে পারে। নতুন কোনো ওষুধ সেবনের পর এমন উপসর্গ দেখা দিলে নিজ সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ না করে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতি বা কার্পাল টানেল সিনড্রোমের মতো সমস্যার কারণেও হাতের তালুতে চুলকানি দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে হাত অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন অনুভূতি, ব্যথা কিংবা দুর্বলতাও থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রাতের দিকে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতের তালুতে চুলকানি যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে অথবা এর সঙ্গে ফুসকুড়ি, তীব্র লালচে ভাব, ব্যথা, জন্ডিস বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সঠিক কারণ নির্ণয় করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ সহজ হয় এবং জটিলতার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।