Eng
অপরাধ, কিশোরগঞ্জ, লিড নিউজ

মাদকাসক্তির অ/ভিযো/গে মা/কে মা/রধর, যুবকের ছয় মাস কা/রাদণ্ড

প্রকাশিত: , ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৭:১৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মাদক সেবনের অভিযোগ এবং নিজের মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলার কোষাকান্দা গ্রামে পরিচালিত এক অভিযানে ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে এই দণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম সজিব (২০)। তিনি উপজেলার কোষাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, মাদক সেবনের পর তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। বিশেষ করে তার মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ওই যুবককে নিজ বাড়িতে পাওয়া যায়। প্রশাসনের দাবি, সেখানে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি তাকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাকুন্দিয়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা শেষে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের সবাইকে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের জন্যও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এমন ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে তারা মনে করছেন।