
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই গণভোটটি সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়াই একটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটে একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ভোটারদের সামনে একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মতে, যদি জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন হতো, তাহলে সেটিকে একটি স্বতন্ত্র ও নির্দিষ্ট প্রশ্নের মাধ্যমে উপস্থাপন করা উচিত ছিল।
বক্তব্যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কয়েকটি কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, কিছু কমিশন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়াই গঠন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যবস্থা ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের সংজ্ঞা, শাস্তির বিধান এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইনও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি মব জাস্টিস বা জনতার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ারও সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধিকাংশ অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার আইনে রূপ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রের স্থায়ী কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
তিনি সংবিধানকে সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য একটি দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে গণভোট-সংক্রান্ত বিধান পুনর্বহাল হয়েছে। তবে সংবিধানের মৌলিক অংশে পরিবর্তন আনতে হলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষদিকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি রোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।