
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গণভোটে পাওয়া জনমতের বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে বিরোধীদল এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, গণভোটে জনগণের যে মতামত প্রকাশ পেয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে আপস করতে চায় না এবং এ বিষয়ে সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের ফল বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে অতীতে আলোচিত গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি আর ফিরে আসা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। তিনি দাবি করেন, কোনো অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল, ডাকসুর কয়েকজন নেতা এবং সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রদর্শনী পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং পরে কয়েকটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্ন হলেও সংলাপ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।