
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি প্রায় ১৬ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ভিসা সুবিধা নিয়েছেন। পাশাপাশি দেশ ছাড়ার আগে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
প্রকাশিত তথ্যমতে, গণ-আন্দোলনের সময় দেশত্যাগের আগে খোকন আব্দুল্লাহ বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সেখানে স্থায়ী হওয়ার উদ্যোগ নেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, আত্মগোপনে থাকার সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার ব্যাকডেটের চেকে স্বাক্ষর করেন তিনি। জানা গেছে, বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আবার ফিরিয়ে আনা হয়। এ কাজে তার তৎকালীন এক সহকারী এবং সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঠিকাদারদের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট অর্থের একটি অংশ কমিশন হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজরে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশ ছাড়ার সময় তিনি নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে প্রথমে খুলনায় অবস্থান করেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আসাম, সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যান বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি টেক্সাসে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের অংশ হিসেবে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও একটি পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সেখানে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।