
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকার মিরপুরে আয়োজিত এক জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং তার ভাষায় “ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন” অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে তিনি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে এবং বাইরে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও রায়কে সম্মান জানানো প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব। যারা অতীতে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়নি, ইতিহাসে তাদের রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে বাস্তবতা মেনে জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
গণভোট প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের ফলাফল নিয়ে যে আলোচনা ছিল, নির্বাচনের পর সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে তার দল মনে করে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, যেসব মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
তবে এসব বক্তব্য বিরোধীদলীয় নেতার নিজস্ব রাজনৈতিক মন্তব্য ও দাবি। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের আলোচনা ও কর্মসূচি আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।