
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (২৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ শুধু সরকারি বা বেসরকারি চাকরির দিকে না ঝুঁকে কৃষি খাতকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষিকে ঘিরে শিল্প ও ব্যবসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অর্থ শুধু চাকরি খোঁজা নয়। বরং আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে একজন উদ্যোক্তা নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে শিক্ষিত তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, সৃজনশীল চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান একটি বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় প্রচলিত চিন্তার বাইরে এসে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণার ফল দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক এবং মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনও বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গবেষণায় দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির উন্নয়নে বর্তমান নবীন শিক্ষার্থীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বক্তারা কৃষিকে সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী কৃষি, অ্যাগ্রো প্রসেসিং এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।