
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কক্সবাজার ও গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক সহযোগিতা ছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সারজিস আলম দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিগনাল’ এবং পুলিশের সহযোগিতায় কক্সবাজার ও গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল হয়েছে। তবে তার এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বিএনপির উদ্দেশেও একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম, হত্যা এবং বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের ঘটনাগুলো এত দ্রুত ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো ও আহতদের আত্মত্যাগও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তার দাবি, অতীতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও রাজনৈতিক দলগুলোর স্মরণে রাখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সারজিস আলমের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে—এমন তথ্য জানা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।