
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেছেন, দেশের কোথাও অন্যায়, জুলুম বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে তা প্রতিরোধে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে অতীতের মতো মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও আবার রাজপথে নামতে পারে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ওপর নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তার দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অতীতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে জনগণ নীরব থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি সম্প্রতি দেখা হওয়া এক আহত আন্দোলনকারীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেছেন যে কোনো সমস্যা শুরুতেই সমাধান করা সহজ, কিন্তু তা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে সমাধানে আরও বেশি মূল্য দিতে হয়। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে মামুনুল হক বলেন, সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অবস্থান নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জালিমকে অন্যায় থেকে বিরত রাখাও এক ধরনের সহযোগিতা। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, অতীতের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত। অন্যথায় জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, বর্তমানে আদর্শভিত্তিক নেতৃত্বের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব কিংবা আধিপত্যের রাজনীতির পরিবর্তে মেধা ও নৈতিকতার চর্চা হওয়া উচিত।
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতের আন্দোলনে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে অংশ নিয়েছিল। ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা আবারও মাঠে নামতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নামও উল্লেখ করেন।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তার অভিযোগ, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তবে এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতের অংশ বলে জানা গেছে।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ ১১ দলীয় জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।