
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রংপুরে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমাবেশে তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলকে নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি পুরোনো মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন বলে দাবি করেন।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে একটি গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক সময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “ছাত্রদলে ছাত্র নেই, সব বস্তির টোকাই।” রায়হান সিরাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তার ব্যক্তিগত মন্তব্য নয়; বরং তিনি খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইংরেজি ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট তারিখকে তরুণদের কাছে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতি নিয়েও তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। তার অভিযোগ, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে অতীতের ছাত্রলীগের রাজনীতির প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ফলাফল এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।
সমাবেশে তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক মামলাগুলোর বিচার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং সেসব বিচারকে তিনি ‘বিচারের নামে জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া রংপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন বলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি বা ব্যানার নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোরও সমালোচনা করেন রায়হান সিরাজী। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে সতর্কতামূলক বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। এছাড়া মহানগর জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট বক্তাদের নিজস্ব দাবি ও মতামত। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।