
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ছাত্র ও সাধারণ মানুষ কোর্ট মসজিদ এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে সেখানে থাকা তিনজনকে পুলিশ আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাহদী হাসান রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ জানাতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তবে আটকের কারণ এবং ঘটনাটির বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন বা আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে, আটকের পর মাহদী হাসানসহ তিনজনকে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের ওপর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত হতে পারে।