
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশটির হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠা এক বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মো. রাজন হোসেন নামের ওই বাংলাদেশি আগামী রোববার দেশে পৌঁছাতে পারেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে রাজন হোসেন একজন। চাকরির কথা বলে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানো হলেও পরে তাঁদের কয়েকজন যুদ্ধসংক্রান্ত কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনকে উদ্ধারের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) মস্কো সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেশে ফেরার একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়াটি মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে।
মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বরাতে জানা গেছে, রাজন হোসেনের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দূতাবাসের নজরদারিতে তাঁর প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজন হোসেন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে যাত্রা করবেন। ফ্লাইটটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা হয়ে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সবকিছু নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চললে রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে উচ্চ বেতন, ভালো চাকরি এবং নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে এরই মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের পর গত ১ জুন আর এস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড নামে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যুবকদের রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চাকরির নামে বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, ভিসার ধরন এবং কাজের প্রকৃতি যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজন হোসেন দেশে ফেরার পর তাঁর অভিজ্ঞতা ও কীভাবে তিনি রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।
বর্তমানে রাজনের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিনি রোববার ঢাকায় পৌঁছালে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।