
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন বলে জানা গেছে।
শামা ওবায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে নতুন কিছু উইং চালু করা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও ব্যস্ততা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ফলে কাজের পরিমাণ সামাল দেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বরাতে জানা গেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে দুই প্রতিমন্ত্রী কাজ করবেন।
দুই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা ও গতি বিবেচনায় নিয়েই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে কাজের গতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন কীভাবে হবে এবং দুই প্রতিমন্ত্রী কোন কোন বিষয়ে পৃথকভাবে কাজ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে জানা গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মধ্যে অভিবাসন, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ফলে এসব ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে কতটা গতি আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।