
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। তার দাবি, গত ছয় মাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় লোক নিয়োগ এবং প্রশাসক পদায়নের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম ও কথিত ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে দেশের ১৯ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। একই সময়ে ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৬৩টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে মনোনয়ন না পাওয়া কিংবা নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে নাহিদ ইসলামের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয় এবং সে সময় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। এর প্রভাব গণপরিবহন, কৃষি, সেচ ও সার সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলামের দাবি, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এর কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
বিদ্যুতের দাম নিয়েও সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি লোডশেডিং, অতিরিক্ত বা বিতর্কিত বিল এবং বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাত নিয়েও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাম পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের ওপর দায় চাপানো হলেও সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখল ও বিরোধী মতাদর্শের মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও যথাযথ বিচার হয়নি বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
রাজনৈতিক সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গত ছয় মাসে দেশে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৬৭০টি ঘটনার সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তাদের দল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে সরকার গণভোটের গণরায়কে যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের দেওয়া অভিযোগ ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নেতার রাজনৈতিক অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হলো। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।