
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের একটি বক্তব্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র ও যুব সংগঠন এবং ভবিষ্যতে এসব সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আসিফ আকবর বলেন, সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কাঠামো ও নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আসিফ আকবরের দাবি হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনে সময়ের সঙ্গে নতুন মানুষ যুক্ত হন এবং পুরোনোদের অনেকে সরে যান। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন স্বার্থের সম্পর্ক নিয়েও তিনি কথা বলেন বলে জানা গেছে।
রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আসিফ আকবর মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি বা মতামত থাকলে তা প্রকাশ্যে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংগীতশিল্পী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ নিজেদের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচয় দিলেও জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় বিভাজন তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
আসিফ আকবরের বক্তব্যে দলীয় পরিচয়ের বাইরে দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদল, যুবদলসহ রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন নিয়ে তার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে আসিফ আকবরের বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দেশের রাজনীতিতে ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন সময়ে এসব সংগঠনের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক ও মতামত প্রকাশ পেয়েছে। আসিফ আকবরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে। তাই তার মন্তব্যকে কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।